AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

A I এর অর্থ Artificial intelligence তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে আমরা কম বেশি সকলেই জানি। বর্তমান যুগে এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার হয় না। গবেষণা কাজে যেমন এর ব্যবহার হয় তেমনি এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে, দপ্তরি কাজে কিংবা পড়াশোনায়। সকল ক্ষেত্রে এর নানাবিধ প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। আজকে আমরা পড়াশোনায় এ আই এর ব্যবহার সম্পর্কে জানব।

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ধারণা

বুদ্ধিমত্তা মূলত একদিনের গবেষণার ফলাফল নয়। এর পেছনে রয়েছে বহু বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং উন্নতির ফলাফল। সর্বপ্রথম এই আই এর ধারণা দেওয়া হয় ১৯৫০ সালে। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী Alan Turing কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির পরিকল্পনা করেন। কম্পিউটার বিজ্ঞানী হওয়ায় তার মনে একসময় প্রশ্ন আসে "মেশিন কি চিন্তা ভাবনা করতে পারে?" তার এই চিন্তাধারা থেকে সূচনা হয় নতুন প্রযুক্তি তৈরির।

মেশিন মানুষের মত চিন্তাভাবনা করছে কিনা এটি প্রমাণ করার জন্য তিনি একটি বিশেষ পরীক্ষা করেন যার নাম হচ্ছে "Turing Test" । কিন্তু অফিশিয়ালি বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ শুরু করা হয় ১৯৫৬ সালে। তাই বলা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধারণা অনেক আগে আসলেও এর জন্ম মূলত ১৯৫৬ সালে।

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর প্রায়োগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবনের পরপরই বিভিন্ন ছোট ছোট কাজ করা হয় যেমন গণিতের সমস্যা সমাধান, দাবা খেলা ইত্যাদি। শুরু থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এনালগ সংকেতের মাধ্যমে কাজ করলেও বর্তমানে এটি অনেক জটিল সমস্যা সমাধান করে থাকে। কালের বিবর্তনের এটি যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে এর কাজ করার ক্ষমতা। বুদ্ধিমত্তা কোন বিষয় নিজে থেকে শিখতে পারে এবং মানুষের মস্তিষ্কের মতো Neural Network ব্যবহার হয় (Deep Learning)।

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

লেখাপড়ার ক্ষেত্রে AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাজে এ আই এর ব্যবহার রয়েছে। যেমন: গণিতের জটিল জটিল সমস্যা সমাধান, কোন কঠিন বিষয়ে তথ্য খুঁজে বের করা, সারাংশ, সারমর্ম বোঝার ক্ষেত্রে, ডাটা সংগ্রহ করার কাজে, ভাষা অনুবাদ করার ক্ষেত্রে প্রভৃতি। বর্তমান যুগে সৃজনশীল শিক্ষামূলক ব্যবস্থা বহাল থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রচুর পরিমাণে এ আই এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এই আই মূলত ব্যক্তিগত শিক্ষকের ন্যায় কাজ করে। যেকোনো জটিল সমস্যা কিংবা জটিল তথ্য যা কাজ মুহূর্তের মধ্যে করে দিতে পারে। এ আই সঠিক মত ব্যবহার করতে পারলে একটি ছাত্রের শিক্ষার মান ও দক্ষতা দুটোই বৃদ্ধি পায়।

নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

নতুন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে বা বোঝার ক্ষেত্রে এ আই ব্যবহার করা হয়। যেমন ধরা যাক যদি আমি কোন বাক্য ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করতে চাই তাহলে আমাকে translator ব্যবহার করতে হবে। যেমন: তুমি যদি লেখ "He goes to market" তাহলে এ আই বলে দিবে "সে বাজারে যায়"।

এভাবে বিভিন্ন ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় বাক্যের রূপান্তর করা যায়। এর ফলে ঘরে বসে এআইয়ের মাধ্যমে যেকোনো ভাষা শেখা যায়। শুধুমাত্র ইংরেজি না যে কোন ভাষা শেখা যাবে শুধুমাত্র এ আই এর মাধ্যমে।

জটিল সমস্যা সমাধানে AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

যেখানে পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের জটিল সমস্যা সমাধান করতে অনেক সময় লাগে। সেখানে এটি chatgpt কিংবা cloud ai এর মাধ্যমে সমাধান করা যায়। ফলে শিক্ষার্থীদের বারবার শিক্ষকদের শরণাপন্ন হতে হয় না তারা নিজেরাই ঘরে বসে যে কোন সমস্যা সমাধান করতে পারে। বর্তমান যুগ উপযোগী সময়ের সাথে সুন্দরভাবে তাল মিলিয়ে চলেছে।

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে AI কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

স্কুল বা কলেজের পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে এ আই এর মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে পারবে। এত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানের উন্নতি হবে। তাছাড়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য এ আই এর মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া যায় এবং নিজের প্রস্তুতি যাচাই করা যায়। পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা দলগত ভাবে তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে। বইয়ের ম্যাথ সলভ হোক বা প্রেজেন্টেশন তৈরি হোক সকল ধরনের কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে করা যায়।

পাঠ বোঝার সুবিধার্থে AI কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার

অনেক বড় বড় অনুচ্ছেদ বাড়া শোনার সারাংশ বের করার কিছুটা জটিল হয়ে পড়ে। AI এর মাধ্যমে যে কোন পাঠের সারাংশ বা সারমর্ম সহজে বের করা যায়। ফলে পড়াশোনা প্রক্রিয়াটি আরো দ্রুত ও সহজতর হয়। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে এ AI এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর কিছু ক্ষতিকর দিক

Chatgpt, cloud ai, deepsik, perplexity ইত্যাদি এআইয়ের ওপর নির্ভর করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতা হারাচ্ছে। নিজের মেধা ব্যবহার করার পরিবর্তে তারা মাত্রাতিরিক্ত AI এর উপর নির্ভর হয়ে পড়ছে যেটা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উন্নতির পথে বাধা। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থী তাদের নানা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় AI এর মাধ্যমে নকল করছে যেটা শিক্ষার্থীদের জন্য মোটেই শোভনীয় নয়।

মন্তব্য

উপরে বিস্তারিত AI (Artificial intelligence) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছি। যেমন পড়াশোনা ক্ষেত্রে AI কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এবং তারই সঙ্গে পড়াশোনা ক্ষেত্রে AI যে সকল সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে সেটিও বলা হয়েছে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে AI এর ব্যবহারের ক্ষতিকর দিকের থেকেও উপকারী দিকগুলো বেশি। AI ব্যবহারের ফলে পড়াশোনার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে এভাবে AI ব্যবহার হতে থাকলে শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন আরো বেশি উন্নত হতে থাকবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Hasi Online IT নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url